সারাবিশ্ব
সামরিক পরাজয়ের পর শত্রুরা গুপ্ত যুদ্ধে নেমেছে: মোজতবা খামেনির সতর্কবার্তা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর কাছে অপমানজনক পরাজয়ের পর শত্রুরা এখন গুপ্ত যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি জাতীয় ঐক্য ও জনসচেতনতার মাধ্যমে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ উপলক্ষে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত ইমাম খোমেনির সমাধিসৌধে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তার অনুসারীরা স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আদর্শের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেন।
খামেনি বলেন, শত্রুপক্ষ সামরিক ও জনমতের লড়াই উভয় ক্ষেত্রেই পরাজিত হয়ে এখন গুপ্ত কৌশল গ্রহণ করেছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
তিনি আরও বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো ইরানের অগ্রগতি মেনে নিতে পারছে না এবং তাই বিভিন্নভাবে দেশটিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শত্রুরা সমাজে সন্দেহ, ভয়, হতাশা ও বিভাজন তৈরি করতে চায় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো কার্যক্রম যা মানুষের মধ্যে হতাশা বা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে, তা শত্রুদের স্বার্থকেই এগিয়ে দেয়। তাই ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বার্তায় খামেনি ইমাম খোমেনিকে এক ক্যারিশম্যাটিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার আদর্শ ও চিন্তাধারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ না পেলেও তার আদর্শ গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
খামেনির মতে, ইমাম খোমেনির চিন্তার মূল ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সংগ্রাম, সমাজকে জাগ্রত করা এবং মানুষকে শিক্ষিত করে তোলা।
তিনি বলেন, ইরানি জাতির ভেতরে থাকা শক্তি ও সম্ভাবনাকে ইমাম খোমেনি ও শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জাগিয়ে তুলেছিলেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের বিরোধের মূল কারণ হলো ইরানি জাতির স্বাধীন পরিচয় ও আত্মসমর্পণ না করার মনোভাব। সূত্র: প্রেস টিভি