সারাবিশ্ব

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে সন্দেহভাজন নাশকতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে সন্দেহভাজন নাশকতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক নাশকতার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটির সম্ভাব্য ইরান-যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি যোগাযোগ বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে তেহরান ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার যেকোনো অভিযোগ সরাসরি ও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের কিছু ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার সঙ্গে ইরানকে যুক্ত করার যে আলোচনা চলছে, তা ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ। দূতাবাসের দাবি, প্রমাণ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা বিভ্রান্তিকর এবং এর মাধ্যমে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

কী ঘটেছিল ফেয়ারফোর্ডে?

ব্রিটিশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের বিষয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে আটক করে। প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের Explosives Act-এর আওতায় অপরাধের সন্দেহে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি’র অভিযোগও যুক্ত করা হয়।

ঘটনাস্থলে তিনটি ভ্যানকে ঘিরে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রোবট ব্যবহার করে যানগুলো পরীক্ষা করে। সম্ভাব্য বিস্ফোরক নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের ওয়েলফোর্ড গ্রামের প্রায় ৮৫টি পরিবারের বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ব্রিটিশ কাউন্টার-টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পাঁচজনই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তারা আর কারও সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না এবং ঘটনাটির পেছনে কোনো বিদেশি যোগাযোগ রয়েছে কি না-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন ইরানের নাম আসছে?

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন হলেও সেখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর কার্যক্রম রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঘাঁটিটি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এরই মধ্যে সম্ভাব্য ইরান-যোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তদন্তকারীরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। অন্যান্য সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা বিদেশি সম্পৃক্ততার বিষয়ও তদন্ত থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাজ্যে ইরান-সম্পর্কিত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে। তবে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের দাবি, পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন

ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সন্দেহভাজনরা বিমানঘাঁটিতে ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করার চেষ্টা করছিলেন এবং ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর আগে থেকেই নজর রাখছিল। তবে ব্রিটিশ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের বিষয়ে জরুরি ফোন পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।

এ কারণে সন্দেহভাজনদের উদ্দেশ্য এবং কর্তৃপক্ষ তাদের আগে থেকেই নজরদারিতে রেখেছিল কি না-এ বিষয়ে এখনো ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে এসব প্রশ্নের আরও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

তদন্তে এখনো নিশ্চিত নয় ইরান-যোগ

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন-এর পেছনে কি সত্যিই ইরানের কোনো ভূমিকা রয়েছে? ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ইরান-যোগ তদন্ত করছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে তেহরান শুরু থেকেই এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফলে আপাতত ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি ব্রিটিশ পুলিশের তদন্তাধীন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। পাঁচ সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য, তিনটি ভ্যানের ভেতরে থাকা সামগ্রীর প্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।