সারাবিশ্ব

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ২০টির বেশি দেশের জরুরি সম্মেলন বোগোটায়


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ১০:০১ এএম

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ২০টির বেশি দেশের জরুরি সম্মেলন বোগোটায়
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ‘বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ’ ঘোষণার লক্ষ্যে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশ

আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় জরুরি সম্মেলনে বসেছে। এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে হেগ গ্রুপের সহ-সভাপতি কলম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বগোটায় শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো—ইসরায়েল ও এর প্রভাবশালী মিত্রদের তৈরি করা দায়মুক্তির সংস্কৃতি মোকাবিলায় সম্মিলিত কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসরায়েলকে জবাবদিহির মুখে আনতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে গঠিত ‘দ্য হেগ গ্রুপ’ বর্তমানে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, কিউবা, হন্ডুরাস, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, সেনেগাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা—এই ৮টি দেশকে নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক জোট। এই গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন প্রয়োগে বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা তৈরি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা মন্ত্রী রোল্যান্ড লামোলা এক বিবৃতিতে বলেন, “হেগ গ্রুপের প্রতিষ্ঠা ছিল ব্যতিক্রমবাদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষয় প্রতিরোধে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বোগোটার সম্মেলন সেই চেতনাকেই নতুন করে উজ্জীবিত করবে। বিশ্বের কাছে স্পষ্ট বার্তা যাবে—কোনো জাতি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এবং কোনো অপরাধ বিনা জবাবদিহিতে পার পাবে না।”

বোগোটা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে: আলজেরিয়া, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, কিউবা, জিবুতি, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, লেবানন, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, নিকারাগুয়া, ওমান, পর্তুগাল, স্পেন, কাতার, তুরস্ক, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, উরুগুয়ে ও ফিলিস্তিন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাশাপাশি গাজার চলমান সংকট ও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করতেও এই সম্মেলনের কূটনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই সম্মেলন প্রমাণ করছে—বিশ্বে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।