সারাবিশ্ব
ইরানে তীব্র হচ্ছে সরকার পতনের আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন
ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও বিস্ফোরক রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এবার আন্দোলনকারীরা সরাসরি সরকার পতনের দাবি তুলেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ধ্বনিত হচ্ছে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর একটি ভবনে আগুন জ্বালানোর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ থাকায় এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে উল্লাস করছেন বিক্ষোভকারীরা।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই মোট ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমনে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত অর্থনৈতিক সংকট এবং গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের চাপ—সব মিলিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে ইরানের বর্তমান সরকার। যদিও কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করছে এবং কঠোর বিচারিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও সহিংসতার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এদিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র ও নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে তিনি ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।