সারাবিশ্ব
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না: লারিজানি
ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেবে না।
সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। এর আগে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে লারিজানির বক্তব্য সেই গুঞ্জন নাকচ করেছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করেছে নিহতের সংখ্যা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, লেবানন থেকে ছোড়া মিসাইলের পর বৈরুত সরাসরি তেল আবিবের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো হয়েছে। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন দেশকে এই সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য সতর্ক করেছেন।
সংঘাতের বিস্তার রোধে ইসরায়েল লেবাননের ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর স্থাপনা ও সামরিক সম্পদের কাছাকাছি অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, তাই বাসিন্দাদের অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হয়ে ইরানের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ ছয়টি সদস্য দেশ জানিয়েছে, অঞ্চল সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
মার্কিন জনমতের একটি জরিপে দেখা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিষয়ে মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া ৫৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগে অতিরিক্ত উৎসাহী।
পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশ শান্তি ও আলোচনার পক্ষে থাকলেও আপাতত কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নেবে না।
সূত্র: রয়টার্স