সারাবিশ্ব

যুদ্ধের ক্ষতি উসুল করতে হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে ট্রানজিট টোল


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

যুদ্ধের ক্ষতি উসুল করতে হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে ট্রানজিট টোল
ছবিঃ সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতি এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল থেকে পুষিয়ে নেওয়া হবে। 

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য এই জলপথের নিয়ম স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথে বিদেশি শক্তির খবরদারির দিন শেষ হয়ে গেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ উপদেষ্টা সাইয়্যেদ মোহাম্মদ মেহদি তাবাতাবাঈ জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি বা আল্টিমেটামে কাজ হবে না। যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সমপরিমাণ অর্থ টোল হিসেবে আদায় হওয়ার পরেই কেবল প্রণালিটি সবার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হতে পারে।

বর্তমানে ইরান বাছাইকৃত কিছু বিদেশি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় ১০ লাখ ডলারের বেশি ট্রানজিট ফি আদায় করছে বলে জানা গেছে।

ইরানি নৌবাহিনী বর্তমানে পারস্য উপসাগরে একটি নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো বা ‘নিউ অর্ডার’ প্রতিষ্ঠার শেষ ধাপে রয়েছে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-কোনো বহিরাগত শক্তি ছাড়াই উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পুরো এলাকায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়াদানকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইরান তাদের জলসীমা রক্ষা করে জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো উসকানিমূলক হস্তক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।