সারাবিশ্ব

ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করেছে ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করেছে ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য কোড ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়— সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসনের এমন এক বিস্ফোরক দাবিতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ‘জাজিং ফ্রিডম’ নামের একটি পডকাস্টে জনসন বলেন, হোয়াইট হাউসে এক জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলার বিষয়ে জোর দেন। তবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তার বিরোধিতা করেন। জনসনের দাবি অনুযায়ী, জেনারেল কেইন সরাসরি প্রেসিডেন্টকে ‘না’ বলে দেন, যা নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়।

এই দাবির প্রেক্ষাপটে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে জেনারেল কেইনসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পডকাস্টে প্রদর্শিত একটি ভিডিওতে কেইনকে ক্ষুব্ধ অবস্থায় হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে দেখা যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও সামরিক কাঠামো অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের নির্দেশ সরাসরি বাতিল করার ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর নেই। ফলে জেনারেল কেইন বাস্তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আটকে দিতে পারতেন কি না—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবুও প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর মতবিরোধের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে জেনারেল কেইন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সহজ বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে কেইন এমন কোনো মত দেননি।

অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে আটকে পড়া মার্কিন পাইলটদের উদ্ধারের সময় ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় ট্রাম্প অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন এবং সহযোগীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক কর্মকর্তারা তার সরাসরি সম্পৃক্ততা সীমিত করেন।

ট্রাম্পের আচরণ ও মানসিক স্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই দাবিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে এমন টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগজনক হতে পারে।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪