সারাবিশ্ব

আল্লাহর কসম কেটে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি হুথিদের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

আল্লাহর কসম কেটে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি হুথিদের
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে দেশ দুটিকে কঠোর ও নির্মম জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল বুখাইতি।

আল বুখাইতি বলেন, আল্লাহর কসম, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে জড়িত হয়, তাহলে তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে। সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে দেশ দুটিকে শিক্ষা দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যকার যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হুথিদের পক্ষ থেকে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।

তবে আল বুখাইতি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাধারণ জনগণের মধ্যে ইয়েমেনের মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই তার এই হুঁশিয়ারি মূলত দেশ দুটির সরকারের প্রতি, যদি তারা সামরিকভাবে ইয়েমেন সংঘাতে যুক্ত হয়।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে তিন পক্ষের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে করা এই চুক্তির লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো। চুক্তি অনুযায়ী, অংশীদার কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তুরস্কের সমর্থনের ইঙ্গিত

হুথিদের হুমকির মধ্যেই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের সামরিক পর্যায়ের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হতে পারে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জোট পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত চলছে। এর পর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটির যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অগ্রগতির দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের অবস্থান

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার শুরু থেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে রিয়াদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তবে সম্প্রতি মক্কার কাছে হামলার খবরের পর পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য চিরন্তন চুক্তি ও ধর্মীয় দায়িত্ব। পবিত্র কাবা বা মহানবীর জন্মস্থানে হামলা হলে কোনো চুক্তির অপেক্ষা না করে তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীও একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।