সারাবিশ্ব
জাতিসংঘে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ রাশিয়ার
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন।
লাভরভ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বারবার সশস্ত্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো, আরব দেশগুলো এবং ইরানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান সংঘাত দ্রুত বন্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা প্রসঙ্গে লাভরভ বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর নজরদারির আওতাভুক্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা সংস্থাটির কর্তৃত্ব ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর ‘অপূরণীয় আঘাত’ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুধু পারমাণবিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বেসামরিক অবকাঠামোও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন লাভরভ। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কাঠামোর ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনা করে লাভরভ অভিযোগ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে পশ্চিমা বিশ্বের ‘দ্বিমুখী নীতি’ ভূমিকা রাখছে। তাঁর দাবি, নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নে পশ্চিমা দেশগুলো অনেক ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ এবং একতরফা পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে। লাভরভ কিয়েভের কর্মকাণ্ডকে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘বাছাইকৃত নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তুলে তিনি এর সমালোচনা করেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে লাভরভ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সমান প্রয়োগের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশিয়ার কূটনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।