সারাবিশ্ব

পাকিস্তানের নির্দেশে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, এটি কার্যকর হবে না: শুভেন্দু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৪ এএম

পাকিস্তানের নির্দেশে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, এটি কার্যকর হবে না: শুভেন্দু
ছবি: সংগৃহীত

পলাতক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ভারতীয় রাজনীতি নতুন বিতর্কে সরব। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, পাকিস্তানের নির্দেশেই হাসিনার বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে এবং এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু বলেন, “এই রায় পাকিস্তানের নির্দেশে হয়েছে। এটি কার্যকর হবে না। শেখ হাসিনা প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতিনিধি; তিনি কখনো উগ্রবাদীদের সঙ্গে ছিলেন না।”

এদিকে রায়ের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নির্বাসিত হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় ভারত নজরে নিয়েছে। তবে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানাননি তিনি।

রণধীর বলেন, “ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতা—এই সবকিছুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থেই ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।”

এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত বছরের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে দণ্ড ঘোষণা করে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্যসহ আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের কাছে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত মানবতাবিরোধী অপরাধীরা যদি অন্য কোনো দেশে আশ্রয় পান, তা হবে ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা এবং দুই দেশের সম্পর্কের পরিপন্থী। ইতিমধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে ভারতকে দ্রুতই তাদের হস্তান্তর করার আহ্বান জানানো হয়।