সারাবিশ্ব
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জেন-জি’দের বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় তার প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জেন-জি প্রজন্মকে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জ থেকে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তামিল জনগোষ্ঠী ও জেন-জি প্রজন্মের বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানান।
বিজয় বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমার সব তামিল ভাই-বোন ও জেন-জি বন্ধুদের ভানাক্কম।’ তামিল ভাষার ‘ভানাক্কম’ শব্দের অর্থ নমস্কার, প্রণাম বা শুভেচ্ছা।
পতাকা উত্তোলনের আগে অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ের বাবা এসএ চন্দ্রশেখর, মা শোবা চন্দ্রশেখর এবং অভিনেত্রী তৃষা।
ভাষণে বিজয় বলেন, প্রশাসনিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার সরকার সহযোগিতা করবে। তবে রাজ্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো নীতির বিরোধিতা তার সরকার সবসময় করবে।
দুর্নীতি দূর করাকেও এক ধরনের স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার সরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ করছে। সরকারি রাজস্ব যাতে ব্যক্তিবিশেষের হাতে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগে দুর্নীতি নির্মূলে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করা শক্তিগুলোকে পরাজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিজয় বলেন, তার সরকারকে ঘিরে যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিষয়ে তিনি জানান, আগের সরকারগুলোর চালু করা জনগণের উপকারী প্রকল্পগুলোও তার সরকার অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের ‘আম্মা ক্যান্টিন’ এবং দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের স্কুলশিক্ষার্থীদের সকালের নাশতার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দ্রাবিড় আন্দোলনের নেতা সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য ‘থাইমামান থাঙ্গা মোথিরাম’ নামে স্বর্ণের আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করা হবে বলেও জানান বিজয়। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি।
বিজয় আরও বলেন, জনগণ জাতপাত ও ধর্মের বিভেদ এবং অর্থ ও পেশিশক্তির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে তার সরকারকে সমর্থন করেছে। দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া সাবেক সেনাসদস্যদের মেয়েদের বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার রুপি করার ঘোষণা দেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের মাসিক সহায়তা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার রুপি করা হবে বলেও জানান তিনি।
সেইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের পেনশন ২৩ হাজার রুপি এবং পারিবারিক পেনশন ১২ হাজার ৫০০ রুপি করার ঘোষণাও দেন বিজয়।