সারাবিশ্ব

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ভেসে গেল একাধিক গ্রাম, নিহত ১৭


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ভেসে গেল একাধিক গ্রাম, নিহত ১৭
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল স্রোতে সীমান্তের উভয় পাশে একাধিক গ্রাম প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া সীমান্ত এলাকায় এই ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের অতিরিক্ত তুষার গলে ভোতে কোশি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগের পর নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। যৌথ তৎপরতায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিব্বত অংশে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দেশটির সব নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা গেছে, কাদামাটি ও তুষারগলা পানির প্রবল স্রোত লোকালয় ও ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভোতে কোশি নদীর ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় থাকা নিখোঁজ কর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক চীনা ব্যবসায়ী ইয়ে লিয়াং। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় তাদের একটি পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সাতটি পণ্যবাহী ট্রাক ছিল। এসব ট্রাকে নেপালি কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। বন্যার পর থেকে তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় নিখোঁজ কর্মীদের স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।