সারাবিশ্ব

মন্দিরের মেহেদি হাতে পরলে এক বছরের মধ্যে নিশ্চিত বিয়ে, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

মন্দিরের মেহেদি হাতে পরলে এক বছরের মধ্যে নিশ্চিত বিয়ে, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে বিশেষ মেহেদি নিতে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরের মেহেদি হাতে পরলে এক বছরের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায়। এমন বিশ্বাস থেকেই সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে মেহেদি নিতে মন্দিরে জড়ো হন হাজারো মানুষ। মাত্র তিন ঘণ্টায় বিতরণ করা হয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। মন্দিরে বিশেষ মেহেদি বিতরণের খবর পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মন্দির কর্তৃপক্ষও নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করে।

মন্দিরে আসা ভক্তদের কাছে সিঞ্জারা মেহেদির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বিয়েতে বাধার মুখে থাকা ব্যক্তিরা মন্দির থেকে এই মেহেদি সংগ্রহ করে হাতে লাগান। তাদের বিশ্বাস, এতে এক বছরের মধ্যে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে, মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়। দিল্লি ও চণ্ডীগড়সহ বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তরা মেহেদি সংগ্রহ করতে মন্দিরে আসেন। তাদের কেউ কেউ আগের রাতেই মন্দিরে পৌঁছে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ সারি ও মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আশপাশের এলাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্ত অচেতন হয়ে পড়েন বলেও জানা গেছে।

এদিকে মেহেদি বিতরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিয়ে নিয়ে মানুষের এমন বিশ্বাস ও আগ্রহ নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে প্রতিবছর এই সিঞ্জারা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সারা বছরই মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে ভক্ত ও পর্যটকদের সমাগম থাকলেও গণেশ চতুর্থীর সময় সেখানে ভিড় আরও বেড়ে যায়। বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন লোকবিশ্বাসের সঙ্গেও মন্দিরটির নাম জড়িয়ে আছে।