সারাবিশ্ব

পাহাড়ের গভীরে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’, কোথায় রয়েছে এসব গোপন ঘাঁটি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

পাহাড়ের গভীরে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’, কোথায় রয়েছে এসব গোপন ঘাঁটি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ দেশটির বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ পাহাড়ের গভীরে তৈরি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও সুড়ঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনাকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘মিসাইল সিটি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দেশটির ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে বলে উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে জানা গেছে।

এর আগে ইরানের কাছে তিন হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকার ধারণা ছিল। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের হিসাবেও এমন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে বিভিন্ন নতুন হিসাব প্রকাশিত হয়েছে। তবে হামলার পর বর্তমানে ঠিক কত ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।

চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হিসাবে ইরানের কাছে প্রায় দুই হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। রয়টার্সের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরেও ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সীমিত পরিসরে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএনএনের উপগ্রহচিত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথে হামলা চালানোর পর দেশটি সেগুলো মেরামত ও পুনরায় ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। একটি বিশ্লেষণে ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গ পরীক্ষা করে অন্তত ৫০টি প্রবেশপথ পরিষ্কার বা মেরামতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ইরানের এসব স্থাপনায় মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার, জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাহাড়ের গভীরে এসব স্থাপনা তৈরি করায় বিমান হামলার মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থা ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইরান দেশজুড়ে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ছড়িয়ে রাখার কৌশলও অনুসরণ করে। এর ফলে কোনো একটি ঘাঁটি বা কেন্দ্রীয় সামরিক ব্যবস্থায় হামলা হলেও অন্য স্থাপনাগুলো থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

ইরানের উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাবরিজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, খোররামাবাদ ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি, কেরমানশাহ অঞ্চলের বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, ইসফাহানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র, সেমনানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এলাকা এবং শাহরুদ মহাকাশ কেন্দ্র।

এ ছাড়া পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স, দেজফুল ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি, কেশম দ্বীপের সামরিক স্থাপনা, বান্দার আব্বাসের নৌ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, বুশেহরের ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং কেরমানশাহ অঞ্চলের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কথাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তেহরানের আশপাশের আলবোর্জ অঞ্চল, কোম, ফার্স, লোরেস্তান, হরমোজগান, ইসফাহান ও সেমনান প্রদেশেও ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে বলে বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব স্থাপনার সঠিক সংখ্যা, বর্তমান সক্ষমতা এবং সেখানে কত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত সংখ্যা ও অবস্থানের তথ্যও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

ইরানের কাছে বর্তমানে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেই এবং দেশটির কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। তবে দেশটির দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।