সারাদেশ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন নওগাঁর শাকিল


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন নওগাঁর শাকিল
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন নওগাঁর শাকিল। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

জন্ম থেকেই চোখে আলো নেই নওগাঁ সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের মো. শাকিলের। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তাকে পড়াশোনা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তবে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরি পাচ্ছিলেন না শাকিল। অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে সেকশন অফিসার পদে চাকরি পেয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাকিলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তার চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাকিলের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। নওগাঁ সদর উপজেলার মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

শাকিলের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম শ্রুতিলেখক হিসেবে তাকে সহযোগিতা করেছেন। 

শাকিল বলেন, লেখাপড়া শেষ করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে গিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে চাকরি পাননি। এতে একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।

সম্প্রতি নিজের শিক্ষাজীবন ও সংগ্রামের কথা নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে তুলে ধরেন শাকিল। তার কথা শুনে শাকিলের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেন সংসদ সদস্য। পরে বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। 

চাকরি পাওয়ার পর শাকিল ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘আমি অনেক খুশি। নবম গ্রেডের একটা চাকরি আমার কাছে স্বপ্ন। আমার মতো মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলামের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। উনারা পাশে না দাঁড়ালে আমার হয়তো এতো ভালো চাকরি হতো না।’

সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘আমরা জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের উপকার করতেই আমাদের আনন্দ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে শাকিলকে নিয়ে যাওয়ার সাতদিনের মধ্যেই ওর চাকরির ব্যবস্থা হয়ে গেছে। নিজের এলাকার এমন সংগ্রামী একজন ছেলের এ রকম অর্জনে আমি অনেক খুশি।’