সারাদেশ

পাবনায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ডোবা থেকে শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

পাবনায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ডোবা থেকে শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি নামে ১০ বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ টুকরো টুকরো অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও পরিবার।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ কয়েক টুকরো করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে।

নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশের দিকে চলে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। মঙ্গলবার পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।

এর পরদিন বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি শিশু কলির বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য সূত্র দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদিও কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, সন্ধ্যার দিকে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন তারা। কারা তার মেয়েকে হত্যা করেছে এবং কারা তাদের এত বড় সর্বনাশ করেছে, তা জানতে চান তিনি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করছে পুলিশ। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।