সারাদেশ
পিরোজপুরে বিএনপি নেতার ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার অভিযোগ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় নির্বাচনী ব্যানার খুলে ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খলিলুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত খলিলুর রহমান বর্তমানে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বেতমোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খলিলুর রহমান কয়েকটি ব্যানার গাছের সঙ্গে টানিয়েছিলেন। এসব ব্যানার খোলা নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিক ও সদস্যসচিব তারেকুজ্জামানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে প্রশাসনের সহায়তায় খলিলুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলে খোকন মল্লিক ও তারেকুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়লেও সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে পাঠানো হয়।
খলিলুর রহমানের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বেতমোর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছবি সংবলিত ব্যানার ও পোস্টার টানানো হয়েছিল।
তার অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিক ও সদস্যসচিব তারেকের নেতৃত্বে জিল্লুর নাজীর, আমীর মল্লিকসহ ১০ থেকে ১৫ জন ওই পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার সঙ্গে থাকা আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানান খলিলুর রহমান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিক। তিনি বলেন, খলিলুর রহমানের ওপর হামলার খবর শুনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আবুবকর সিদ্দিক বাদলসহ তারা হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। শুধু একজন ব্যক্তি অভিযোগ করলেই সেটি সত্য প্রমাণিত হয় না। স্থানীয়ভাবে তারা জানতে পেরেছেন, খলিলুর রহমানের সঙ্গে অন্যদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, হামলার বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কিছু জানেন না। ছাত্রদলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ছাত্রদলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আহত ব্যক্তি অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।