জাতীয়

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখেই কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখেই কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া হিসাব খুলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকরা যাতে নিরাপদ বোধ করেন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।