সারাবিশ্ব

পবিত্র নগরী মক্কায় হামলার শঙ্কা, সতর্কতা জারি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

পবিত্র নগরী মক্কায় হামলার শঙ্কা, সতর্কতা জারি
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিরল সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব। তবে সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পরই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে জেদ্দা ও তাইফ শহরেও সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর মক্কায় এ ধরনের সতর্কতা জারির ঘটনা এবারই প্রথম। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ মক্কা নগরীতেই অবস্থিত।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সোমবার ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর জবাবে সৌদি আরবও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

হুথিদের দাবি, গত পাঁচ দিনে তাদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি আরব তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করে, এসব হামলায় এফ ১৫ ও ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে।

সৌদি আরব হামলা অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার হুমকি দিয়েছে হুথিরা।

গোষ্ঠীটির আরও দাবি, সৌদি হামলার জবাবে খামিস মুশাইতের বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে হুথিরা।

গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে হুথিরা রাজধানী সানা সহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পর ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর দীর্ঘ সময় বড় ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলা না হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনায় পরিস্থিতি আবারও বদলে গেছে।

সূত্র: এ এফপি