অর্থনীতি

সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য এসব জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। সরকারি পর্যায়ে জিটুজি ভিত্তিতে চীনের ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।

বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এর আগে দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৯তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রচলিত সরকারি পর্যায়ের জিটুজি ব্যবস্থায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। অতিরিক্ত এই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ২০২৬ সালের মূল বরাদ্দের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

পরিবহন, শিল্প ও বিমান চলাচল খাতে বাড়তি জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং বছরের শেষ চার মাসে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০ নভেম্বরের মধ্যে এক কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে প্রতি এমএমটিবিইউ এলএনজির দাম হবে এশিয়ার স্পট বাজারের জাপান কোরিয়া মার্কার, জেকেএম, এর দামের সঙ্গে শূন্য দশমিক শূন্য দুই ডলার যোগ করে। এই দাম যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভরের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মূল্যের তুলনায় কম।

৪৪ প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ ২০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

অন্যদিকে দেশে নন ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারও সার আমদানি করবে।

বৈঠকে বেসরকারি খাতের ৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টন নন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন ৯৩৮ ডলার দরে ১৯টি প্রতিষ্ঠান এই সার আমদানি করবে।

এছাড়া ১৪টি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন প্রায় ৩৯৯ ডলার দরে এই সার আমদানি করা হবে।

আরও ১০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন দেশ থেকে ২ লাখ টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন ৭৫৬ ডলার দরে এসব সার আমদানি করা হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জিটুজি ভিত্তিতে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।