জাতীয়

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জনকারী বাংলাদেশের হাফেজদের সম্মান জানাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজয়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত এই সাফল্য শুধু সংশ্লিষ্ট হাফেজদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষেরও সম্মান ও গৌরব জড়িত। তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কার জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন নয়। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’

হাফেজদের উৎসাহিত করা ও তাদের অর্জনের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত ও সম্মান জানানো হচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সন্তানরা তাদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়াকে বর্তমান সরকারের নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ ও দেশের মানুষ পাবে। যোগ্যতা ও প্রতিভার স্বীকৃতি তরুণদের আরও ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা মাদ্রাসা শিক্ষা ও হিফজ শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, হাফেজদের পক্ষ থেকে যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর সমাধানের কোনো সুযোগ বা কার্যকর পথ সরকারের কাছে রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। সরকারের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হাফেজরা যাতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামনে এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সরকারকে জানাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিক এবং নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণদের সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের শান্তি ও মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য একই হওয়া উচিত। সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই সরকারের প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের কর্মকাণ্ডে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চায় সরকার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের হাতে বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের আগে প্রতিযোগিতায় যে সূরার আয়াত তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেসব আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

অন্যদিকে হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। একই প্রতিযোগিতায় হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।