সারাবিশ্ব
ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি ও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্প এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।
বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-জিসিসির সদস্য দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের রাষ্ট্রপ্রধান অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বুধবার এসব দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য প্রাথমিক আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি অন্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদেরও বৈঠকে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এসব দেশের কয়েকটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং চলমান সংঘাতের সময় ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সেসব স্থাপনা ও আশপাশের অঞ্চল। ফলে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকানো এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগও আলোচনায় আসতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের পর জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি বলে ইসরায়েলি একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প আটটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে তিনি গাজা যুদ্ধ বন্ধে তাঁর প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার একটি খসড়া তুলে ধরেছিলেন। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি চুক্তি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আমরা যুদ্ধের শেষের দিকে রয়েছি।’ একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বার্তা পেয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসও উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠকটি ইরান যুদ্ধের পরবর্তী কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের বিস্তার রোধ, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা-এসব বিষয় বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।