সারাবিশ্ব
রুশ ধনকুবেরের ‘উপহার’ ট্রাম্পপুত্রের বিয়ের পরের পার্টিতে, কংগ্রেসে তদন্তের উদ্যোগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনা অ্যান্ডারসনের বিয়ের পর বাহামাসে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের খরচ বহন করেছেন রুশ ব্যবসায়ী উমার ক্রেমলেভ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদেশি এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যের এমন বড় অঙ্কের ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও উদ্যোগ নিয়েছেন।
অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে প্রথম বিষয়টি বিস্তারিতভাবে সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের মে মাসে বাহামাসে ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনা অ্যান্ডারসনের বিয়ের পর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই আয়োজনের জন্য রুশ ব্যবসায়ী উমার ক্রেমলেভ কয়েক লাখ ডলার ব্যয় করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যয়ের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ ভাড়া এবং আতশবাজির আয়োজনও ছিল।
তবে বিষয়টিকে সরাসরি বিয়ের খরচ হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প জুনিয়রের স্ত্রী বেটিনা অ্যান্ডারসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁদের মূল বিয়ের আয়োজন ছিল পারিবারিক পরিসরে। পরে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা বন্ধুদের একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের বিয়ের আয়োজন যুক্ত হয়ে যায়। তাঁর দাবি, ওই অনুষ্ঠানের দুই রাতের খরচ ক্রেমলেভ বহন করেন এবং সেটি ছিল বন্ধুর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ‘অত্যন্ত উদার বিয়ের উপহার’।
ক্রেমলেভের কার্যালয়ও বিষয়টি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রেমলেভের সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের পরিচয় কয়েক বছর আগে। তাঁর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে তিনি কখনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেননি।
ট্রাম্পের বক্তব্য কী?
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, উমার ক্রেমলেভ কে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর দাবি, ওই রুশ ব্যবসায়ী তাঁর ছেলের বিয়ের খরচ বহন করেননি। বরং তিনি শুধু বিয়ের পরের একটি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি নিজে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি বড় কোনো ঘটনা নয়।
প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে ক্রেমলেভকে আন্তর্জাতিক বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ক্রেমলেভের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসে।
ট্রাম্প জুনিয়র ও ক্রেমলেভের পরিচয় কীভাবে এবং কখন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প জুনিয়রের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁদের পরিচয় শিকারের সূত্রে এবং পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
কংগ্রেসে কেন তদন্তের উদ্যোগ?
বিদেশি একজন ধনকুবেরের কাছ থেকে ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের পরের অনুষ্ঠানের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্প জুনিয়র ও ক্রেমলেভের সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প জুনিয়রের কাছে এ-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে কী ধরনের উপহার, অর্থ বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এসব সুবিধার সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না-এসব বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেমলেভের দেওয়া অর্থ বা উপহারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক চুক্তি, সরকারি সিদ্ধান্ত কিংবা নির্দিষ্ট কোনো নীতিগত সুবিধার সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি। ট্রাম্প জুনিয়র ও তাঁর স্ত্রীও কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা অস্বীকার করেছেন।
ফলে এই মুহূর্তে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো-রাশিয়ার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কেন ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের পরের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য কয়েক লাখ ডলার ব্যয় করলেন, সেটি নিছক বন্ধুত্বের উপহার ছিল কি না এবং এ ধরনের বিদেশি ব্যক্তিগত সুবিধার ক্ষেত্রে আর্থিক ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলো কীভাবে দেখা হবে। কংগ্রেসের অনুসন্ধানে এ সম্পর্ক ও লেনদেন নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।