জাতীয়

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও জোরদারের আলোচনা, মানবপাচারে ‘জিরো টলারেন্স’ ঢাকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও জোরদারের আলোচনা, মানবপাচারে ‘জিরো টলারেন্স’ ঢাকার
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে দুই দেশের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত। এ সময় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ফ্রান্সে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন (ইউএনজিএ) সামনে রেখে বৈঠকে দুই দেশ নিজেদের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়েও মতবিনিময় করে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ফ্রান্সের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে ঢাকার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথাও জানায়।