রাজনীতি

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না: গোলাম পরওয়ার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না: গোলাম পরওয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তারা চান না এবং তা হতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে লংমার্চ বাস্তবায়ন নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চকে ঘিরে সহযোগিতার জন্য সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং যেসব জেলার ওপর দিয়ে লংমার্চ যাবে, সেসব জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচি হবে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের কোনো পরিকল্পনা ১১ দলের নেই। পুরো কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে।

তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের এমন চিন্তা থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা কোনো বিশৃঙ্খলা চান না, তাই অহেতুক সংঘাত সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার প্রয়োজন নেই।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তার দাবি, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষের দেওয়া রায় কোনো সরকার নির্বাচনের পর বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি ব্যবহার করে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সবকিছু করার প্রবণতা থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেকে কর্তৃত্ববাদী চরিত্র অর্জন করেছে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে কর্মসূচি চলবে। এরপর গাড়িবহর গাজীপুর ও টঙ্গী হয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

গোলাম পরওয়ার জানান, গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে আরেকটি পথসভা হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে।

এরপর লংমার্চ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে যাবে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময় পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির ওপর সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানান তিনি। সবশেষে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। গাড়িবহরের শেষে বিভিন্ন জেলার অংশগ্রহণকারীদের গাড়ি যুক্ত হবে। সবশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে।

এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স বিভাগের দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যম দলের সদস্যরাও লংমার্চে থাকবেন। সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মাধ্যমে লংমার্চ পরিচালনা করা হবে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, লংমার্চের পথ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথের চেয়েও প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ। ফলে পথে আলাদাভাবে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে না। এ কারণে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান তিনি। পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।