রাজনীতি

দেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি: নাহিদ ইসলাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

দেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি: নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনের পরও দেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি।

মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যা মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি ও বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা গত সাত মাসে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করছেন। মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে তার পরিবারকে হয়রানিরও অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জানান, মিরাজ শেখের পরিবার থানায় গেলে প্রথমে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ারও সমালোচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গাজী সালাহউদ্দিন সরকারপ্রধানকে নিয়ে কটূক্তি করে ভুল করেছিলেন এবং দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে গালাগাল করা বা ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করা সমর্থনযোগ্য না হলেও সেটিকে সন্ত্রাস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তার চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে বিরোধী দল ও মত দমনের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অতীতে গুমের শিকার হয়েছেন। বিরোধীদলে থাকার সময় বিএনপি এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। এখন সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও কোনো তদন্ত হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। গুমের ঘটনাগুলোর তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতারা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকার কী জবাব দেবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও করেন তিনি।

মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।