রাজনীতি
অবশেষে মুখ খুললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। গত ২২ জুলাই বিকালে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে বহিষ্কারের প্রায় দুই মাস পর মঙ্গলবার নিজের অবস্থান জানিয়েছেন গাজী নজরুল। তার দাবি, তিনি এখনো জামায়াতের সদস্য এবং নিজেকে দলের সংসদ সদস্য মনে করেন।
গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় জামায়াতে ইসলামী। তবে এখন পর্যন্ত তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে। ফলে তিনি বর্তমানে কোনো দলের সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন, নাকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গণমাধ্যমকে গাজী নজরুল বলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে আল্লাহর রহমতে তার সদস্যপদ এখনো রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, খাতা কলমে সব জায়গাতেই তিনি এখনো জামায়াতের সদস্য হিসেবে আছেন। জামায়াত কী বলছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্য ভিন্ন। দলটির নেতারা বলছেন, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল আর জামায়াতের কেউ নন। তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ বলেন, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের চিঠি সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তিনি এখন কী বলছেন, সে বিষয়ে তার জানা নেই বলে জানান।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও বলেন, গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এরপর স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
৭৫ বছর বয়সী গাজী মো. নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা ৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। এরপর তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে গত ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।