খেলা

৫০০ কুমিরের নদীতেই বসছে অলিম্পিকের রোয়িংয়ের আসর


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

৫০০ কুমিরের নদীতেই বসছে অলিম্পিকের রোয়িংয়ের আসর
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৫০০ লোনা পানির কুমিরের আবাসস্থল অস্ট্রেলিয়ার ফিটজরয় নদী। সেই নদীকেই ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিকের রোয়িং প্রতিযোগিতার ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের পর ফিটজরয় নদীকে ক্যানোয়িং প্রতিযোগিতার উপযোগী ঘোষণা করা হয়। তবে এই মূল্যায়নে কুমিরের উপস্থিতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। মূলত অলিম্পিক চলাকালে ও এর আগের সময়ে আবহাওয়া, পানির স্তর এবং বন্যার ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে জুলাই ও আগস্টে।

গেমস ইনডিপেনডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটি জানিয়েছে, ফিটজরয় নদীর এই স্থির পানির অংশটি আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে নিয়মিত স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় নৌকাবাইচ এবং জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীটি নিয়মিত রোয়িংয়ের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় কুমির দেখা গেলে নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট জরুরি ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিয়েও অলিম্পিক কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বিশ্ব রোয়িংয়ের সভাপতি জ্যঁ ক্রিস্তফ রোঁলা বলেন, রকহ্যাম্পটনের ফিটজরয় নদী অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিস্তৃত বিশ্লেষণের পর নদীটিতে প্রতিযোগিতার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা জানতে পেরেছেন।

প্যাডল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি টমাস কোনিয়েটজকোও ভেন্যুটি নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, কারিগরি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার মাঠ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। ফলে ক্যানো স্প্রিন্টের ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তবে নদীতে বিশাল আকৃতির কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। গত বছর ব্রিসবেন ২০৩২-এর সভাপতি অ্যান্ড্রু লিভারিস বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, সমুদ্রে হাঙর থাকে বলেই যেমন সার্ফিং বন্ধ করা হয় না, তেমনি কুমিরের উপস্থিতির কারণে এই আয়োজন নিয়েও নেতিবাচক মানসিকতা রাখা উচিত নয়।

ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার পর লিভারিস বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের পরিকল্পনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয়ভাবে ‘সল্টি’ নামে পরিচিত লোনা পানির কুমির স্বাদু ও লোনা, দুই ধরনের পানিতেই বিচরণ করতে পারে। এসব কুমিরের দৈর্ঘ্য ছয় মিটারেরও বেশি হতে পারে। এখন কুমিরের আবাসস্থল এই নদীতে কীভাবে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অলিম্পিকের রোয়িং প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, সেটিই দেখার বিষয়।