সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু, সরকারি হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

কুষ্টিয়ায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু, সরকারি হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ডোবায় ডুবে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কর্তব্যরত দুই চিকিৎসক, এক হাসপাতালকর্মী ও এক আনসার সদস্যকে মারধর করা হয়। জরুরি বিভাগসংলগ্ন চিকিৎসকের কক্ষেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির আহাম্মেদের তিন বছর বয়সী ছেলে রাফি ডোবার পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও গ্রামের কয়েকজন হাসপাতালে আসেন। এ সময় তারা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল কর্মকর্তা রিয়াজুন জান্নাত, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ, জরুরি বিভাগের কর্মী জসিম ও আনসার সদস্য বিজয়ের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলায় গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষে হামলা চালিয়ে জানালার কাঁচ, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পিযূষ কুমার সাহা বলেন, রাফি নামের শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার ছাড়পত্রের কাগজপত্র প্রস্তুতের সময় স্বজনরা চড়াও হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে শিশুটির বাবা সাব্বির আহাম্মেদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন চিকিৎসক একবার শিশুটির বুক পরীক্ষা করে কক্ষে চলে যান। এরপর ২০ থেকে ২৫ মিনিট কোনো চিকিৎসক তাদের কিছু জানাননি। পরে আরেকজন চিকিৎসক এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কক্ষের কাঁচ ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তবে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়নি বলেও দাবি করেন সাব্বির।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, হামলার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।