সারাদেশ

বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল: প্রতিমন্ত্রী টুকু


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল: প্রতিমন্ত্রী টুকু
বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল: প্রতিমন্ত্রী টুকু। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন- সরকার প্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সদর উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৫০ জন ‘কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে টুকু বলেন, টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও শিক্ষামুখী ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।

এ সময় টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।