জাতীয়

অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে আইনি ঝামেলা নয়, মিলবে সরকারি পুরস্কার: এসআরবি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে আইনি ঝামেলা নয়, মিলবে সরকারি পুরস্কার: এসআরবি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে কোনো আইনি জটিলতায় না ফেলে সরকারি নিয়মে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান চলছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে এখন সাধারণ মানুষের তথ্য প্রয়োজন।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই যার কাছে যে তথ্য আছে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি পরিস্থিতির কারণে থানায় থাকা অস্ত্র নিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তার কোনো দুরভিসন্ধি নাও থাকতে পারে। কিন্তু পরে কী করবেন বুঝতে না পেরে কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার ভয়ে কাউকে বিষয়টি জানাতে পারছেন না। এই সমস্যার সমাধান করতেই তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, কেউ অস্ত্র নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রেখে শুধু সেই জায়গার তথ্য দিলেও হবে। সেখানে দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজিন বা গুলি রয়েছে, এতটুকু তথ্যই তাদের জন্য যথেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করবেন। তথ্যদাতাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং তার কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে হবে না।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক রাতের মধ্যে পরিস্থিতির পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে এসআরবির পক্ষ থেকে জোরালো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসআরবি ব্যাটালিয়নের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তার সবগুলোই নেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুর থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে তারা সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন।