সারাবিশ্ব
১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’র হুঁশিয়ারি ভারতের
ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের বিষয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চুক্তিগুলো পর্যালোচনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি ভারত।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তারা দেখেছেন। তবে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে কিছু জানায়নি। আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারতের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি গত সপ্তাহে জানান, ১০১টি সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই এর ফলাফল জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
পর্যালোচনার আওতায় থাকা বিষয়গুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের ব্যবস্থা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্রকল্প রয়েছে। তবে এসব চুক্তি একযোগে বাতিল করা হবে, এমন কোনো ঘোষণা বাংলাদেশ সরকার দেয়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।
পানি বণ্টন দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি নিয়ে আলোচনা চালানোর জন্য দুই দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে পানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কারিগরি পর্যায়েও বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনসহ প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ কোন চুক্তি বহাল রাখবে, কোনগুলো সংশোধন করতে চাইবে এবং কোন কোন বিষয়ে নতুন করে আলোচনা বা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে ভারত জানিয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এরই মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছে।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া