সারাবিশ্ব
শখ জাগছে, একটা জ্যাতা পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি: ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি
পটুয়াখালীর বাউফলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
হুমকির কথোপকথনের প্রায় দুই মিনিটের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে ফরিদ উদ্দিন গাজীকে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক কথা বলতে শোনা যায়। তবে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির সত্যতা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢাকায় জমি কেনাবেচার পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা করেন তিনি।
গোবিন্দের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ উদ্দিন গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুনও টানিয়েছেন বলে জানান।
ফরিদ উদ্দিন গাজীর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিজে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও তার পছন্দের একজন প্রার্থী রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ফরিদ গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার দিনই একটি চেক প্রতারণার মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অডিওতে ফরিদ গাজীকে ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর হুমকিমূলক কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি জানতে চান, ব্যবসায়ী এলাকায় কবে আসবেন। পরে তার কাছে জানতে চান, তিনি এলাকায় আসার খবর নিজে জানাবেন, নাকি তাকে খবর রাখতে হবে।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এর আগেও তাকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সে সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।
গোবিন্দ বলেন, হুমকির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা বিএনপির নেতাদের বলা হয়েছে। তদন্তের পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, বিষয়টি জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া অডিওর উৎস সম্পর্কে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।