জাতীয়

পর্যটন খাতকে ৮-৯ শতাংশে নিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও পিপিপিতে জোর সরকারের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

পর্যটন খাতকে ৮-৯ শতাংশে নিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও পিপিপিতে জোর সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পর্যটন খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান বর্তমান ২-৩ শতাংশ থেকে ৮-৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের (এটিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী ‘পর্যটন বিচিত্রা’ তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে।

অনুষ্ঠানে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নতুন পর্যটননীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ ও অঙ্গীকার ছাড়া দেশের পর্যটন শিল্পকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কাজ এখনই শুরু করতে হবে। আগামী দিনের জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান সময়েই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নের জন্য দেশের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে; অন্য কেউ এসে আমাদের হয়ে কাজ করে দেবে-এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান আনুমানিক ২-৩ শতাংশ। এই অবদানকে ৮-৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সরকার কাজ শুরু করেছে। পর্যটন খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পর্যটন খাতকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

কক্সবাজারকে দেশের পর্যটন উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা এবং পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে আরও সম্প্রসারিত করা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পর্যটকদের জন্য ফ্রেশ ওয়াটার শাওয়ার, চেঞ্জিং রুম, লকার সুবিধা, নাইট লাইটিং বা সোলার লাইট, ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি, রেসকিউ টিম এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মতো সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব সুবিধা চালু হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে এবং কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন পরিবেশ তৈরির পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে বাংলাদেশসহ মোট ১০টি দেশের দুই শতাধিক পর্যটন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় প্রায় ৩০০টি স্টলে হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং পর্যটন সম্ভাবনা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে এই আয়োজন।

এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ। আর মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ ও পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।