সারাবিশ্ব

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে এসেছে, তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি ট্রাম্পের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে এসেছে, তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসান খুব শিগগিরই হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তাঁর ধারণা, যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ের দিকে রয়েছে। একই সময়ে ইরানের কাছ থেকে সরাসরি একটি বার্তা পাওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। তবে ওই বার্তায় কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করছি, আমরা যুদ্ধের শেষের দিকে রয়েছি।’ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে এবং এখনো যুদ্ধের তাৎক্ষণিক অবসানের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য ওই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা আলোচনা হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-জিসিসির সদস্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা অথবা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। তবে বৈঠকের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানোর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থানেও হামলা চালায়। এতে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হয় এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

যুদ্ধের শুরু থেকেই এর লক্ষ্য ও সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এবার তাঁর ‘যুদ্ধের শেষের দিকে’ পৌঁছে যাওয়ার মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করা এই সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে এর আগে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশটির কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র।

চলমান সংঘাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। একই সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপ তৈরি হওয়ায় ইরান যুদ্ধ এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে যুদ্ধের অবসান, সম্ভাব্য চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরবর্তী মার্কিন নীতির দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।