সারাবিশ্ব

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ফের বিমান হামলা, নিহত ২২


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ফের বিমান হামলা, নিহত ২২
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো পৃথক দুটি হামলায় ২২ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এবং পাকিস্তানের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের দুই প্রদেশে সন্ত্রাসীদের অবস্থান লক্ষ্য করে এসব বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় ২২ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে নিহতদের পরিচয় বা তারা কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য-এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে বুধবার রাতে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করে, হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকটি আবাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বুধবার গভীর রাতে হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে এ ধরনের সামরিক অভিযান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন আবারও বেড়েছে। গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানে একটি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলার পর এসব ঘটনার জন্য আফগানিস্তানে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করতে শুরু করে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের অভিযোগ, তালেবান সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। তবে তালেবান সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মসজিদে হামলাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি সশস্ত্র ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান অন্তত দুই দফায় আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসলামাবাদ এসব অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও কাবুল এর তীব্র বিরোধিতা করেছে।

তবে সর্বশেষ হামলায় প্রকৃতপক্ষে কতজন নিহত হয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা ও কতজন বেসামরিক নাগরিক-তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এবং পাকিস্তান পৃথক ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষেও হামলার স্থানগুলোতে স্বাধীনভাবে পৌঁছে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফলে সর্বশেষ এই বিমান হামলা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও সীমান্ত উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তান একদিকে সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে, অন্যদিকে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।