সারাবিশ্ব

পাকিস্তানকে কাছে টানছেন ট্রাম্প, কূটনৈতিক চাপে ভারত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৪২ পিএম

পাকিস্তানকে কাছে টানছেন ট্রাম্প, কূটনৈতিক চাপে ভারত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তানকে কাছে টানছে ওয়াশিংটন, আর তা ভারতের ওপর কূটনৈতিকভাবে চাপ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে জ্বালানি, খনিজ ও কৃষি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তারা। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মুনির ট্রাম্পকে বিরল খনিজভর্তি একটি বাক্স উপহার দিচ্ছেন।

এর আগে জুলাইয়ে পাকিস্তানের জন্য শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। শাহবাজ শরীফ এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ট্রাম্পকে ‘শান্তির মানুষ’ আখ্যা দেন। তিনি আরও দাবি করেন, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেনাপ্রধান মুনির তো মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। তবে ভারত এসব দাবি সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধে ট্রাম্প কোনো ভূমিকা রাখেননি। বরং সে সময় ট্রাম্প ভারতকে উদ্দেশ করে কটাক্ষ করেছিলেন, যা নয়াদিল্লির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখা গেলেও এবার সেই সম্পর্ক ভাটা পড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এতে ওয়াশিংটনের প্রতি ভারতের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষক হর্ষ পন্তের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করে, তবে ভারতকে তার ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। এতে কোয়াডের মতো আঞ্চলিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্প্রতি পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, “যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ মানে উভয়ের ওপর আক্রমণ।” এটি ভারতের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কেবল অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

ভারতের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মীরা শংকরের মতে, ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদার নয়, বরং অর্থনৈতিক লেনদেনের চোখে দেখেন। পাকিস্তান ছোটখাটো ছাড় দিয়ে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে এ সম্পর্ককে অস্থায়ী ও অনিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিতাভ মট্টু মনে করেন, ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নতুন কিছু নয়। স্নায়ুযুদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময় যেমন হয়েছিল, এখন পশ্চিম এশিয়া–মধ্য এশিয়ার অস্থিরতায় আবার পাকিস্তানকে কাজে লাগাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার তারা পাকিস্তানের দ্বিচারিতা সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি সচেতন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের প্রতি বিনিয়োগও গভীর হচ্ছে।