সারাবিশ্ব

অস্ত্র বিক্রিতে যেসব দেশকে অগ্রাধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

অস্ত্র বিক্রিতে যেসব দেশকে অগ্রাধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে কোন দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নতুন কৌশল নির্ধারণ করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফার্স্ট আর্মস ট্রান্সফার স্ট্র্যাটেজি’ নামের এই আদেশের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করে এবং আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূকৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, তাদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং নিজস্ব সুরক্ষায় বড় অঙ্কের ব্যয় করা দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে। যদিও আদেশে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে চান। একই সঙ্গে বিদেশে অস্ত্র বিক্রি বাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যও রয়েছে এই কৌশলের পেছনে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নেতারা তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়ে সম্মত হন। পাশাপাশি ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্র হামলার শিকার হলে অন্য সদস্যরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি তথ্যপত্রও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশে অস্ত্র বিক্রি থেকে প্রাপ্ত আয় ও বিনিয়োগ ব্যবহার করে দেশের ভেতরে উৎপাদন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে।

নতুন কৌশলের আওতায় কোন কোন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পাবে—সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় কোন কোন দেশে অস্ত্র বিক্রির সুযোগ রয়েছে, তা চিহ্নিত করার দায়িত্বও তাদের দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স