সারাবিশ্ব
ইরানের পর ইউক্রেন-লেবাননে শান্তি ফেরাবো: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্নের পর এবার ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণা দিতে ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।
বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন তার অপ্রত্যাশিত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও ফ্রান্সের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি ন্যাটো জোট, সামরিক সহায়তা এবং অভিবাসন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ফ্রান্সে পৌঁছে ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক নতুন দিকে এগোবে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম কমছে এবং শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হলে জি-৭ জোটের কয়েকটি দেশ এর সমালোচনা করেছিল। বিশেষ করে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালির নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের দূরত্ব তৈরি হয়।
নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ বিনা বাধায় চলাচল শুরু করেছে।
ইরান সংকটের পর এখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও লেবাননের সংঘাত বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ফোনালাপ ইতিবাচক হয়েছে এবং তারা শান্তি আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে এখনো রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানার কারণে পুতিনের ইউরোপ সফর নিয়েও জটিলতা রয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) পর্যন্ত চলা এই জি-৭ সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং বিরল খনিজ সম্পদের বাজার নিয়েও আলোচনা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা