জাতীয়

এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়াতে নেদারল্যান্ডসের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়াতে নেদারল্যান্ডসের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা বাড়াতে নেদারল্যান্ডসের সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতেও দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ সমর্থন চান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখা এবং একটি মসৃণ ও টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আবেদনে নেদারল্যান্ডসের সমর্থন কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে দেশটির সহযোগিতা চান।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষ জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক অবকাঠামো, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, সেমিকন্ডাক্টর, পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ও কোল্ড-চেইন উন্নয়নকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে।

এ সময় নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী একটি সামুদ্রিক বাণিজ্য মিশনের সম্ভাব্য সফর এবং বস্ত্র ও পানি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়ে সফরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জাহাজ নির্মাণ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে নেদারল্যান্ডসের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা খাতে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বদ্বীপ ব্যবস্থাপনা, খাল খনন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। হুমায়ুন কবির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পানি ব্যবস্থাপনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকারগুলোর একটি।

এ ছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বৈঠকে অভিবাসন, জাতিসংঘের সংস্কার এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এ সময় জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।