সারাবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ঝড়ের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন হাজার হাজার মানুষ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ঝড়ের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন হাজার হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নর’ইস্টার’। প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের কারণে নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস ও ডেলাওয়্যারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নিচু এলাকার রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করেছে।

জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রবল বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

নিউ জার্সির সার্ফ সিটি ও মানাসকুয়ানসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। উপকূলবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঝড়ের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বোস্টন, নিউইয়র্ক, নান্টাকেট ও মার্থাস ভিনইয়ার্ড বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। ফলে হাজারো যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জনসমাগম ও ক্রীড়া আয়োজনের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নর’ইস্টারের প্রভাবে বিনোদন ও ক্রীড়াঙ্গনেও এর প্রভাব পড়েছে। জনপ্রিয় ব্রিটিশ গায়ক এড শিরানের নির্ধারিত কনসার্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বোস্টন রেড সক্সের ম্যাচের সময়সূচিতেও আবহাওয়াজনিত কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরৎ মৌসুমের শুরুতে গাছগুলোতে এখনও প্রচুর পাতা থাকায় প্রবল বাতাসে গাছের ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। এতে ডালপালা ভেঙে পড়া কিংবা পুরো গাছ উপড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যাপক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ, অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে আগামী সময়ে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হতে পারে।