সারাবিশ্ব

গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে ‘মনস্টার’ বললেন ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে ‘মনস্টার’ বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইকে ‘মনস্টার’ বা ‘দানব’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি নেতিবাচক অর্থে নয়; বরং প্রযুক্তি খাতে পিচাইয়ের প্রভাব, সাফল্য ও সক্ষমতার প্রশংসা করেই তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে পিচাইকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানসহ আরও কয়েকজন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তি। বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল দ্রুত বিকাশমান AI প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উন্নত AI ব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদার করা।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে পিচাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই লোকটি একজন মনস্টার, কিন্তু কেউ তাকে চেনে না।’ এরপর পিচাইয়ের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যাপক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, এমন একজন ‘মনস্টার’ হয়েও পিচাইকে প্রতিদিন সাংবাদিকদের সামনে এসে কথা বলতে হয় না-এটিকে তিনি মজার ছলে একটি ‘দারুণ জীবন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যে সুন্দর পিচাইও হাস্যরসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘আশা করি, এটা “আমি একজন মনস্টার” বলার চেয়ে ভালো কোনো ট্যাগলাইন হবে।’ পিচাইয়ের এই মন্তব্যের পর উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। পুরো ঘটনাটি ছিল অনেকটাই অনানুষ্ঠানিক ও রসিকতাপূর্ণ।

তবে বৈঠকের মূল বিষয় ছিল শুধুই সৌজন্য বা রসিকতা নয়। বৈঠকে AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি স্বেচ্ছামূলক কাঠামো নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়। এতে AI কোম্পানিগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্বাধীন বহিরাগত নিরীক্ষক ও মূল্যায়নকারীদের মাধ্যমে প্রযুক্তির নিরাপত্তা যাচাই করার বিষয়ে সম্মত হয়।

মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ জানান, AI ব্যবস্থার সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে একাধিক স্তরের পর্যালোচনা ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মধ্যে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি পর্যালোচনা, স্বাধীন বহিরাগত নিরীক্ষা এবং পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে সেই মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনার বিষয়ও রয়েছে। অর্থাৎ, AI প্রযুক্তি তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু কোম্পানির নিজস্ব নজরদারি নয়, বাইরের মূল্যায়ন এবং পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষণও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই AI প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটির বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে এবং সেই ঝুঁকিগুলো কীভাবে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। ফলে AI-এর দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, বৈঠকের আলোচনায় সেটি স্পষ্ট হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক ও পরবর্তী সমঝোতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাত-AI-নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও তদারকির আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই সুন্দর পিচাইকে ট্রাম্পের ‘মনস্টার’ আখ্যা দেওয়ার মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।