আইন আদালত

গুমের সরাসরি নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৪ পিএম

গুমের সরাসরি নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ জেআইসি বা ‘আয়নাঘর’-এ সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি রবিবার (৭ ডিসেম্বর) শুরু হয়েছে। এই শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন অভিযোগ তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন।

দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল শুনানি শুরু করে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন সেনা কর্মকর্তা—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী-কড়া নিরাপত্তায় সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।

এ ছাড়া মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজন সাবেক ডিজি ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। পলাতকদের পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

আগে ঠিক করা সময় অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হলেও, পরে ৮ অক্টোবর দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি পলাতকদের হাজির করতে সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবীদের মধ্যে পরিবর্তন আসে যখন শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবী জেডআই খান পান্না অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান; এরপর মো. আমির হোসেনকে নতুন আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।