আইন আদালত

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নিজের দণ্ড স্থগিতের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় তিনি এই আবেদন করেন। পরবর্তীতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এ রায়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের মামলায় প্রথম কোনো আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এসব অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় অন্য অপরাধগুলোর জন্য পৃথক দণ্ডাদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে অবৈধভাবে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি পালিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যান।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করা হয়।