আইন আদালত

এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী মাকসুদা ১ দিনের রিমান্ডে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী মাকসুদা ১ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম এহসানুল ইসলামের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে হাজতখানা থেকে মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাদের আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

এদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার আওতাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন।

ওই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।

পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের কর্মী সাইদুল ইসলাম সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। মরিয়মের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও উদ্ধার করা হয়। সেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ ছিল বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।

মরিয়মের পরিবারের দাবি, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় তার সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল। পরে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের ক্রমাগত নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।