আইন আদালত
দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু, অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যা বললেন গাজী নজরুল
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তার ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের বিরুদ্ধে আনা আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ মিথ্যা। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আত্মহত্যার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার বিকালে ঢাকার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গাজী নজরুল ইসলাম।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ২টা ২২ মিনিটে তাদের আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাদের সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ডের পক্ষে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেন তিনি।
বেলা ৩টা ১২ মিনিটে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে আদালতের পঞ্চম তলার এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর এগুলো খুলে দেওয়া হয়।
বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এজলাসে ওঠেন। এরপর শুরু হয় মামলার শুনানি।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সর্বোচ্চ মেয়াদের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তার দাবি, মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না।