ইচ্ছাশক্তিই মহাশক্তি

১৬ মে ২০২২, ০২:৩০ পিএম | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পিএম


ইচ্ছাশক্তিই মহাশক্তি

ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। এর কোনো বিকল্প নেই। যে যত বেশি ইচ্ছাশক্তির অধিকারী সে তত বেশি সফল। তার কাছে জীবন তত বেশি সহজ ও আনন্দময়। ঠুনকো কারণে জীবনকে বিষাদময় করে তোলার কোনো মানে নেই। জীবন অনেক সুন্দর। তাতে কাঁটার আঘাত আসতেই পারে। সেই আঘাতে নিজেকে ব্যর্থ ভেবে বসে থাকলে চলবে না। জীবনকে সৌন্দর্যময় করে তোলার পথে কাঁটা বিছানো থাকলে সেখানে কি থেমে যেতে হবে? মোটেই না। কাঁটা সরিয়ে সামনে এগোতে হবে। পায়ে কাঁটা বিঁধলেও পিছপা হওয়া যাবে না। এজন্য নিজের ইচ্ছাশক্তিটাকে আরেকটু শান দিতে হবে।

ইচ্ছাশক্তিই কিন্তু মানুষের জীবনীশক্তি। এই শক্তিই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। সামনে চলার পথ বাতলে দেয়। হতাশা কাটিয়ে মানুষ সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়। স্বপ্ন কখনো মরে না। স্বপ্ন নিজে বাঁচে এবং মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কোনো স্বপ্নবাজ মানুষ জীবনে ব্যর্থ হয় না। মানুষের জীবনে ব্যর্থতা থাকতেই পারে। সেটা তার জীবনের জন্য একটা অভিজ্ঞতা। ব্যর্থতা ছাড়া সফল হওয়া যায় না। যেখানে ব্যর্থ হয় সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায়। ইচ্ছাশক্তিই মানুষের শারিরীক ও মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ইচ্ছাশক্তির বলেই একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীও জীবন ফিরে পায়। মরার আগেই কেউ যদি মরে যায় তাকে কেউ বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।

ভয়ঙ্কর বিপদেও ইচ্ছাশক্তি মানুষকে পথ দেখায়। কাজেই যে কোনো বিপদই সামনে আসুক, তা মোকাবিলার জন্য নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। বিপদে হতাশ হওয়া যাবে না। ভয় পাওয়া যাবে না। ভয় কিংবা হতাশা একটা রোগ। এই রোগে পেলে মানুষ দিশা হারিয়ে ফেলে। হতাশা ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখে। পেছন থেকে মানুষকে টেনে ধরে। সামনে আগানোর পথ রুদ্ধ করে দেয়। হতাশা বা ভয়কে জয় করতে ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রতিটি মানুষই পৃথিবীতে আসার পর থেকে সুতার উপর দিয়ে হাঁটে। নীচে পড়লেই ভয়ঙ্কর বিপদে পড়তে হবে। তা জেনেই তো মানুষ জীবনবাজি রেখে সুতার ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছে। তাহলে হতাশাকে আমরা স্থান দেব কেন? হতাশা বা ভয় শব্দটিকে চিরতরে জীবনের ডিকশনারী থেকে বাদ দিতে হবে। ইচ্ছাশক্তি অটুট থাকলে সাফল্য আসবেই। কোনো কাজে বাধা আসলে কিংবা সফল না হলে আমরা ভাবি, সব বুঝি শেষ হয়ে গেল! জীবনে ব্যর্থতাই যদি না থাকে তাহলে সাফল্যের গুরুত্ব কোথায়? ইচ্ছাশক্তি মানুষকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে। আর কাজ মানুষকে সফল মানুষে পরিণত করে।

মহান সৃষ্টিকর্তা মানবজাতির উদ্দেশে বলেছেন, যে মানুষ নিজেকে সাহায্য করে, আমি তাকেই সাহায্য করি। এর মানে হচ্ছে, ঘরে বসে থাকলে সাফল্য কোনো দিনও ধরা দেবে না। কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। সাহসী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই সাফল্য এসে ধরা দেবে।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, ঢাকাপ্রকাশ ও সাহিত্যিক

 


বিভাগ : মোটিভেশন