জাতীয়

ক্ষমা চাইলেন এনবিআরের আরও শতাধিক কর্মকর্তা, আন্দোলনের ক্ষতির দায় স্বীকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০২:৪১ পিএম

ক্ষমা চাইলেন এনবিআরের আরও শতাধিক কর্মকর্তা, আন্দোলনের ক্ষতির দায় স্বীকার
ছবি: সংগৃহীত

চলমান আন্দোলনের জের ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আরও শতাধিক কর্মকর্তা।

বুধবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে দুই দফায় পৃথকভাবে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের দপ্তরে দেখা করে তাঁরা ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আন্দোলনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এরা সবাই বিসিএস (আয়কর ও কাস্টমস) ক্যাডারের কর্মকর্তা, যারা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগের দিন, মঙ্গলবারও আয়কর ক্যাডারের প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা একইভাবে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এনবিআরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রথম দফায় আয়কর ক্যাডারের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সোয়া ৯টার দিকে কাস্টমস ও ভ্যাট ক্যাডারের আরও প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা দেখা করে আন্দোলনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে পুনরায় কাজে ফেরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আন্দোলনের ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা স্বীকার করে কর্মকর্তারা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সরকারের নির্দেশনা মেনে রাজস্ব বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করবেন।

চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছেন, আমি তাদের ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা করে দিয়েছি। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ক্ষমা করা রাষ্ট্রের বিষয়।” তিনি সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাস ধরে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মকর্তারা চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ সংশোধন, এনবিআরের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, এবং শেষপর্যায়ে এসে মূল দাবি হিসেবে উঠে আসে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের আন্দোলন সরকারি কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা সৃষ্টি হয় এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। সরকার শুরুতে শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করলেও আন্দোলন চরমে পৌঁছালে কঠোর অবস্থান নেয়। আন্দোলনে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গত ২৯ জুন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান নিজ দপ্তরে ফিরে আসেন এবং সেদিনই তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে বলেন, “পেছনের সব কিছু ভুলে গিয়ে এখন সবাইকে রাষ্ট্রের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

সরকারি তদন্তে আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের তথ্য উঠে আসে বলে জানা গেছে। একটি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৮৪৫ পৃষ্ঠার বার্তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারকে এ বিষয়ে তথ্য দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে আন্দোলনে যুক্ত ১৬ জন কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে। এছাড়া তিনজন এনবিআর সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং কয়েকজনকে বদলি ও বরখাস্ত করা হয়।

এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এসব সিদ্ধান্ত এনবিআরের নিজস্ব নয়, বরং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এনবিআর কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।