জাতীয়
তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের আহ্বান মাহমুদুর রহমানের
তরুণ সমাজকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের তরুণরা বুলেট ভয় পায় না। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের সামরিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।"
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাহমুদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি রাষ্ট্র। আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে এটি একটি বিশাল শক্তি। তবে আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের দিক থেকে। ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র এবং সামরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দিলে, তারা যেকোনো বহিরাগত হুমকি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। অপরদিকে মিয়ানমার একটি বৌদ্ধ রাষ্ট্র। এই দুটি ভিন্ন ধর্মীয় রাষ্ট্রের মাঝে মুসলমানদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ। আমাদের ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিরোধের মানসিকতা ও সামরিক প্রস্তুতি অপরিহার্য।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই বিপ্লব ছিল শুধু একটি সরকার পতনের ঘটনা নয়, বরং ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। এটি ছিল ফ্যাসিস্ট দখলদার ও ভারতের আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জিয়া পরিষদ, গ্রিন ফোরাম, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে জাতীয় নিরাপত্তা, তরুণদের দায়িত্ববোধ এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী চেতনার গুরুত্ব। তার আহ্বান ছিল—একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণই হতে পারে আত্মরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার।