জাতীয়

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসিতে ১ হাজার ৫৯৬ আপত্তি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:০৬ এএম

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসিতে ১ হাজার ৫৯৬ আপত্তি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ নিয়ে ব্যাপক আপত্তি উঠেছে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, খসড়া প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত দেশের ৮২টি আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৫৯৬টি দাবি-আপত্তির আবেদন জমা পড়েছে। কমিশনের সিনিয়র সচিবের দপ্তরে জমা হওয়া আবেদনগুলো যুক্ত হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

গত ৩০ জুলাই ইসি ৩৯টি আসনের সীমানা পরিবর্তনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। এরপর ১০ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা আবেদন করার সুযোগ পান। খসড়া প্রকাশের পরদিন (৩১ জুলাই) থেকেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংক্ষুব্ধ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ভোটাররা দাবি-আপত্তির আবেদন জমা দিতে শুরু করেন।

ইসির খসড়া অনুযায়ী, গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়ানো এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কারণে বাগেরহাট-৪ আসন বহাল রাখার দাবিতে বিএনপির নেতারা জোরালো আপত্তি তুলেছেন। তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনির সিইসির সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলাকে বিভক্ত করে দুই আসনে না রেখে আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন রাখার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। এ আবেদনে সই করেছেন গোলাম মোস্তফা সুমন, মোজাহিদুজ্জামান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, এ কে এম গোলাম মুহীত ওসমানি, মো. বায়েজিদ মিয়া, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ও মো. জহিরুল ইসলাম।

অন্যদিকে, পার্বত্য এলাকার তিন জেলার তিনটি আসন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ইসি বলছে, জনসংখ্যা ও ভোটারের অনুপাতের কারণে দুই বা তিন আসনবিশিষ্ট জেলাগুলোর আসন পরিবর্তন করা হলে তা অস্বাভাবিক বৈষম্য তৈরি করবে। এছাড়া যেসব আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি, সেগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসি কিছু নীতি অনুসরণ করেছে। যেমন—

- প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলা/থানার অখণ্ডতা বজায় রাখা।

- জেলার ভেতর আসনের ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ব্যবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

- ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডকে একাধিক আসনে বিভক্ত না করার চেষ্টা।

- ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য যেমন নদী, রাস্তা-ঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা।

- নতুন সৃষ্ট বা বিলুপ্ত প্রশাসনিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত বা কর্তন করা এবং নাম পরিবর্তন হলে তা সংশোধন করা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ জন। এ গড় ধরে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে বাগেরহাটে ভোটার সংখ্যা গড়ের চেয়ে কম থাকায় একটি আসন কমানো হয়েছে। ফলে ভারসাম্য এসেছে। অন্য কোনো জেলায় আসন বাড়ানো বা কমানোর প্রয়োজন হয়নি। ৩৯টি আসনে শুধু সমন্বয় আনা হয়েছে।”

তবে শেষ পর্যন্ত কোন আসনের সীমানা বহাল থাকবে আর কোনটির পরিবর্তন হবে—তা জানতে পুরো আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।